টার্গেট শেখ হাসিনা, টার্গেট মুক্তিযুদ্ধ
প্রতিবাদে জেগে উঠছে বাংলাদেশ

আবুল হোসেন খোকন

 


এক-এগারো উদ্যোক্তাদের ‘সংস্কার’ বুমেরাং হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এখন চূড়ান্ত পরিণতির পালা শুরু হয়ে গেছে। রাজনৈতিক আতঙ্কে আতঙ্কিত বর্তমান অসাংবিধানিক-অগণতান্ত্রিক-অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার উচ্চাভিলাসী সামরিক সিন্ডিকেটের উপর নির্ভর করে তাদের পরিকল্পিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে মরনপণ চেষ্টা শুরু করেছে। তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্তির কথা বলে নিজেরা সকল অতীত রেকর্ড ভঙ্গ করে বে-আইনিভাবে এবং কূ-র্নীতির আশ্রয় নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করেছে। আর এর ফলে সঙ্গে সঙ্গেই গর্জে উঠেছে বাংলাদেশ। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের প্রবল জোয়ার।


গত ১৫ জুলাই নির্বাচন কমিশন ফখরুদ্দিন সরকারের পরিকল্পিত এবং বিতর্কিত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করার ২৪ ঘণ্টা পার হবার আগেই ১৬ জুলাই ভোররাতে ‘মাইনাস টু ফর্মূলা’ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই গ্রেফতারের কোন ওয়ারেণ্ট ছিল না, আদালতের নির্দেশ ছিল না, যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সেই বহুল বিতর্কিত মামলাটিরও তদন্ত শেষ হয়নি। ভোরবেলা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে আদালতে নেওয়া হলেও (এ সময় আদালত বসার সময়ও নয়) কোন আইনজীবী আগে থেকে তা জানতে পারেননি। তবে আদালতের মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট ভোরেই ফিটফাট সেজে শেখ হাসিনাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেবার জন্য উপস্থিত ছিলেন (হায়! বিচার বিভাগের স্বাধীনতা!)। এখানে শুনানীর সময় মামলার বাদির আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু খবর পেয়ে শেখ হাসিনার পক্ষের শতাধিক আইনজীবী সেখানে ছুটে যান। অথচ তাদের ঢুকতে এবং শুনানীতে অংশ নিতে বাধা দিয়ে আইন-বিধান-বিচার-স্বচ্ছতা ইত্যাদিকে ধুলোয় লুটানো হয়েছে। শুনানীতে বাদির পক্ষে আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও সরকারের পুলিশই সেই বাদির পক্ষে ভূমিকা (?) রেখেছে বিধি-বিধান ভঙ্গ করে। জামিনযোগ্য এই চাঁদাবাজীর মামলায় জামিন না দেওয়ার কোন যুক্তি উপস্থাপিত না হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে জামিন না দিয়ে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলা থাকায় ডিটেনশন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকে না, অথচ সে নিয়মটিও ভঙ্গ করে ডিটেনশনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আরও মজার ব্যাপারÑ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তাতে মামলার বাদির অভিযোগের সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগের মিল নেই। উত্থাপিত অভিযোগে চাঁদাবাজীর কথা নেই। এদিকে শেখ হাসিনার বাসভবন সুদাসদনে তিন ঘণ্টা ধরে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা তল্লাসী করেছে, মালামাল জব্দ করা হয়েছেÑ অথচ এগুলোর সবই বে-আইনিভাবে বা আদালতের নির্দেশ ছাড়াই করা হয়েছে। স্বভাবতই এই পদক্ষেপ কোন মহল থেকেই সমর্থ কুড়াতে পারেনি। এজন্য সচেতন সকল মানুষ সরকারের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এদিকে এই ন্যাক্কারজনক পদক্ষেপের পর সারা দেশও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জরুরি অবস্থা ভেঙে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। গ্রেফতারের দিনই মানুষ ঠেকাতে পুলিশকে মিছিলে উপর গুলি চালাতে হয়েছে। বিভিন্ন্ স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচিও চলে এসেছে। বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, সরকারের জন্য সব এখন বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে।


স্মরণযোগ্য হলোÑ যারা বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরুদ্ধে ছিল এবং এই দেশ সৃষ্টির জনযুদ্ধের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারন করেছিল, গণহত্যা-গণধর্ষণ চালিয়েছিল, দেশকে কামান-মেশিনগান চালিয়ে বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করে মাটিয়ে পুড়িয়ে তামা বানিয়ে দিতে চেয়েছিলÑ সেই শত্র“দেরকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়াটা যেখানে আজও প্রধান কাজ, সেখানে আজ সেই যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদরদের নিরাপত্তা বিধান করা হচ্ছে। আর যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল এবং যে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে জনযুদ্ধটা হয়েছিলÑ সেই আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার কাজ করা হচ্ছে। যেখানে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, জেলহত্যাকারী, সামরিক শাসক এবং জঙ্গি গ্রেনেড-বোমা হামলাকারীদের শায়েস্তা করাটাই প্রধান কাজÑ সেখানেও উল্টো অবস্থা। দেখা যাচ্ছে যে এজেন্ডায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের দালাল জামায়াতীরা ১৯৭১-এ এ জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, গণহত্যা চালিয়েছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর জাতিরজনককে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের পরিচালক রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, জেলখানার ভিতরে ঢুকে মুক্তিযুদ্ধের চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট পরবর্তী সামিরক শাসন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূল করার মিশন নামানো হয়েছিল, তারপর সামরিক শক্তির সৃষ্ট রাজনৈতিক দলকে দিয়ে একই অভিযান চালানো হয়েছিল, এবং এরশাদ-খালেদারা যে টার্গেট বাস্তবায়নে নেমেছিলÑ ঠিক সেই কাজটাই এখন করছে বর্তমান ক্ষমতা দখলকারীরাও। তাহলে কি ক্ষমতায় রাজকাররা? তাই-ই কি রক্ষা পাচ্ছে রাজাকার-আলবদর, আর গ্রেফতার হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দলের প্রধানরা? শেখ হাসিনাকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে (এ হামলায়ও তো সামরিক বাহিনীর একটি অংশ জে. রেজাকুল হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্ত ছিল) হত্যা করতে না পারায় এখন তার উপর নতুর হামলা চালানো হচ্ছে? এদের টার্গেট শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনানির্ভর সকল শক্তি? এসব প্রশ্ন এখন সচেতন মানুষ মাত্রেরই মুখে মুখে।


লক্ষ্য করলে দেখা যাবেÑ বাংলাদেশে এখন প্রায়ই সেনাপ্রধানের তরফ থেকে মানুষকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে তাদের ক্ষমতা দখলের খায়েশ নেই, রাজনীতি করার লক্ষ্য নেই, সেনাবাহিনী দেশ চালাচ্ছে না, তিনি নিজেও রাজনীতি করতে চান না। তিনি কেন বারে বারে এই আশ্বস্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেনÑ সেটাও সচেতন মানুষ মাত্রেরই প্রশ্ন। কারণ সংবিধান অনুযায়ী সামরিক বাহিনীর রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার বিধান নেই, তাদের রাজনীতি করারও বিধান নেই। এই সত্যের পরেও কেন আশ্বস্ত করা? এদিকে তিনি আশ্বস্ত করছেন আবার দেখা যাচ্ছে তিনি রাজনৈতিক বিষয় বা ‘সংস্কারে’ রাজনৈতিক নেতাদের মতো দফাভিত্তিক প্রস্তাবনাও তুলে ধরছেন (যেমন ১০ ও ১১ জুলাই ২০০৭ তিনি ১১ দফা সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন), এর আগে (২ এপ্রিল ২০০৭ ঢাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘রাজনৈতিক উন্নয়নের পুনর্ভাবনা: নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনারে) ‘নতুন ধারার রাজনীতি’ গড়ার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন, তিনি ৩৬ বছরের রাজনৈতিক ‘লাইনচ্যুত ট্রেনকে’ ৩৬ বছর আগের ট্রেনে তোলার মতো কথাও বলেছেন, তিনি রীতিমতো রাজনৈতিক নেতাদের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন, বিভিন্ন জেলা সফর করছেন, সভা-সেমিনার করছেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন, মিডিয়ায় বার বার ফোকাস হচ্ছেন। এসব কি কোন সেনাপ্রধান করতে পারেন? এতে করে কি সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক দলের মতো একটি দল বানানো হচ্ছে না? বিতর্কিত করা হচ্ছে না সেনাবাহিনীকে? এসব দেখে মনে হচ্ছে ফখরুদ্দিন বলে যেন কেই নেই, আছেন জে. ম. উ.। এগুলো কোনটাই কিন্ত সেনাপ্রধানের আশ্বস্ত করা কথার সঙ্গে খাপ খায় না। খাপ খায় না আরও অনেক কিছুই। তিনি গত ৬ মাসে যতোগুলো ওয়াদা করেছেন, কথা বলেছেনÑ তার সবই কেমন যেন চাপাবাজ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি বঙ্গবন্ধুকে জাতিরজনক মর্যাদা না দেওয়ার জন্য আপসোস করেন, আবার জিয়ার মাজারে গিয়ে তার জন্যও আফসোস করেন। কিন্তু কাজের কাজ কোনখানেই হয় না। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের ঘৃণার কথা বলেন, বিচারের কথা বলেন, আবার তাদের সামনে নিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাও করেন। এসবের মানে কি? তিনি একদিকে জাতীয় নেতাদের জন্য মায়াকান্না করেছেন, আরেক দিকে তখন জেলহত্যা মামলার বহুল আলোচিত আসামী মেজর (অবঃ) খায়রুজ্জামানকে সরকারিভাবে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কিংবা বঙ্গবন্ধু ফ্রিগেডের নাম পাল্টে ভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে। এ রকম বহু উদাহরণ তৈরি হয়েই চলেছে।


বাংলাদেশের মানুষের সামনে ভণ্ডদের অনেক উদাহরণ আছে। দেশের মানুষ কিন্তু আর মিথ্যাচার চায় না, দুর্নীতি চায় না, ছল-চাতুরি চায় না। বাংলাদেশের মানুষের এখন একটাই দাবি দেশটি সংবিধান অনুযায়ী চলুক, অসাংবিধানিক ব্যবস্থা দূর হোক, গণতন্ত্র ফিরে আসুক, দেশ পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব যেহেতু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানেরÑ সেহেতু অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা অরাজনৈতিক ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে দূর হোক। দূর হতে যতো দেরী হবেÑ পরিণতি ততো খারাপ হবে।
বাংলাদেশে এখন শাসকরা কখনও সংবিধান সংশোধন করতে চাইছেন, এ জন্য সংবিধান পরিষদের জন্ম দিতে চাইছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে নির্বাহী ক্ষমতায় আনতে চাইছেনÑ যাতে জিয়া-এরশাদের মতো কেউ বসে পড়লেই নির্বাহী ক্ষমতাটা পেয়ে যান। এই নির্বাহী ক্ষমতার জন্য সুরঞ্জিত সেনের মতো লোকেরাও প্রস্তার তুলছেন। শাসকরা কখনও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন, কখনও শাসনতান্ত্রিক সংস্কার করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিধি বা উপেদষ্টা সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। শাসকদের পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনও এই সঙ্গে পাল¬া দিয়ে ‘যেখানেই ভোটার তালিকা শেষ, সেখানেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে’ শাসকদের লোক বসিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৬১টি জেলা পরিষদ, সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন ইত্যাদির নির্বাচন করে ফেলে সেখানে ‘মঈন-ফখরুদ্দিন দলীয়’ লোকদের বসিয়ে ফেলার পরিকল্পনা আঁটা হয়েছে। এই নীলনকশার পক্ষে নতুন প্রধান নির্বাচন কশিনারও এখন আগের ‘আজিজ মার্কা কবিতা’ পাঠ শুরু করে দিয়েছেন।


পাশাপাশি চলছে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়ার মতো ‘রাজনীতিকে রাজনীতিকদের জন্য’ ক্ষত-বিক্ষত করার কাজ, রাজনীতির মাঠকে বহুধা বিভক্ত করার কাজ। এভাবে কার্যত রাজনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আর এভাবেই জঙ্গি মৌলবাদীদের পরিপূর্ণ অভয়ারণ্য গড়া হচ্ছে। এমনকি ইসিও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতেÑ সাড়ে ৪ শ’ মৌলবাদী এনজিও নির্বাচনের সময় জামায়াতের জন্য বিস্তর বৈদেশিক টাকা ঢালতে পারবে। সুতরাং সার কথাÑ একদিকে জনগণের মাটি ও মানুষের রাজনীতি ধ্বংস করে সেখানে মৌলবাদের চাষ; আরেকদিকে এমন ক্ষেত্রটা গড়া হচ্ছেÑ যাতে তৈরি হয় বেসরকারীকরণ এবং মুক্তবাণিজ্যের অবাধ ক্ষেত্র। আর এর পুরো নিয়ন্ত্রণ যাতে চলে যায় লুটেরা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর হাতে। ফলে জাতীয় পুঁজির বিকাশ হবে রুদ্ধ এবং দেশের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষেত্রগুলো হবে আরও ধ্বংস। এই লুটেরা গোষ্ঠী চায়Ñ এদেশে জনগণের পক্ষে কোন আন্দোলন থাকবে না, কথা বলার লোক থাকবে না, রাজনীতি হবে এই বহুজাতিক লুটেরা গোষ্ঠীর অভয়ারন্য রচনা ও বজায় রাখার মাধ্যম, সেনাবাহিনী হবে এই ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির’ পেশীশক্তি, আর বর্তমান সরকার এদের রোডম্যাপ বাস্তবায়নকারী।


সুতরাং গোটা চিত্রটাই রাষ্ট্রবিরোধী, বাংলাদেশবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, সংবিধানবিরোধী এবং আইন-বিচার-জনগণবিরোধী। ক্ষমতায় যদি এই বিরোধীরাই থাকেÑ তাহলে ইতিহাসের দিকনিদের্শনা অনুযায়ী জেগে তো উঠবেই বাংলাদেশ। হয়তো তাই জাগছে বাংলাদেশ।
[ ১৭ জুলাই ২০০৭]

আবুল হোসেন খোকন : লেখক-সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী।